ঢাকা, প্রথম বাংলা ২৪ঃ- সামাজিক সুরক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিনন্দন জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “এই কর্মসূচির প্রকৃত সুফল পেতে হলে উপকারভোগী নির্বাচন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে অনিয়ম-দুর্নীতির ইতিহাস রয়েছে, তা যেন পুনরাবৃত্ত না হয়।”
শনিবার (২ মে) রাজধানীর এফডিসিতে ‘জীবনযাত্রায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান রক্ষায় ভর্তুকি অপরিহার্য। তবে তা যেন লক্ষ্যভিত্তিক হয়—কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে ভর্তুকি দেওয়া জরুরি।”
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সম্পদ সঞ্চালন কম হওয়ায় আমাদের ব্যয়-সাশ্রয়ী বাজেট প্রয়োজন। বর্তমানে সরকার বাণিজ্যিক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাপক ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি পূরণ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তাই আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থায়নের বিকল্প খুঁজে দেখা উচিত।”
বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তিনি আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরামর্শ দেন। “রমজানে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর ফলে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী না হলে এই সুফল পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যাবে না,”—যোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, “করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের অর্থনীতি এখন কঠিন মোড় পার করছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে উচ্চ ঋণখেলাপ ও বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা।”
তিনি আরও বলেন, “বৈশ্বিক মন্দার এই সময়ে সরকার ও বিরোধীপক্ষকে একে অপরকে ব্যর্থ করার মানসিকতা ত্যাগ করে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। জনগণের জীবনযাত্রা সহনশীল রাখতে নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো, ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং ফ্যামিলি কার্ডের মতো ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ করা উচিত।”
‘জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা কলেজকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় কবি নজরুল সরকারি কলেজের দল।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন—অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন এবং সাংবাদিক আবুল কাশেম ও মাইদুর রহমান রুবেল।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এই ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোতে গণতান্ত্রিক আলোচনা ও যুক্তিনির্ভর চিন্তাচর্চার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
Leave a Reply