1. admin@prothombangla24.com : admin_news :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নীরবতা ভাঙার আহ্বান, ঢাকায় এসএসডিআর ফাউন্ডেশনের সেমিনার

  • প্রকাশিত : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৭ বার পাঠ করা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা – মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ, অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনের সময় পেশাদার সহায়তা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচ, ভয় ও নেতিবাচক ধারণা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান আজাদ অডিটোরিয়ামে ‘মনের কথা বলুন, মানসিক সুস্থতা গড়ে তুলুন’ (Breaking the Silence, Building Mental Wellbeing) প্রতিপাদ্যে সেমিনারটির আয়োজন করে এসএসডিআর ফাউন্ডেশন ও এসএসডিআরএফ হিলিং অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (WHO-1) মো. মামুনুর রশীদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “দৈনন্দিন কাজের চাপ ও সামাজিক প্রতিকূলতার কারণে আমরা অনেক সময় নিজেদের অনুভূতিগুলো চেপে রাখি। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বিচারহীনভাবে কথা বলা ও শোনার পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যেখানে মানুষ নির্দ্বিধায় নিজের অনুভূতি ও সমস্যার কথা বলতে পারেন।

বিশেষ অতিথি মো. মামুনুর রশীদ বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্য সামগ্রিক সুস্থতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা, ভয় ও সামাজিক স্টিগমা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

মানসিক সংকটে থাকা মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার সহায়তা গ্রহণে উৎসাহিত করাকে তিনি সবার দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

সেমিনারে এসএসডিআর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, তরুণ সমাজ ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও মানসিক চাপের বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সহায়তার অভাবে অনেকেই সময়মতো কাউন্সেলিং সেবা গ্রহণ করতে পারেন না।

তিনি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পে হিলিং অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার গড়ার উদ্যোগ

সেমিনারে এসএসডিআর ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রকল্পের রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য ও টেকসই করার লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের আওতায় ‘এসএসডিআরএফ হিলিং অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার’ গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

আয়োজকদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক সংকট নিয়ে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করা এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনা

সেমিনারের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় দেশের বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সেলর, যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। আলোচনায় মানসিক স্বাস্থ্যসচেতনতা, মানসিক চাপ মোকাবিলা, সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ এবং প্রয়োজনের সময় পেশাদার সহায়তা গ্রহণের গুরুত্ব উঠে আসে। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আলোচকেরা।

সেমিনার থেকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক নীরবতা ও সংকোচ দূর করে একটি সহমর্মিতাপূর্ণ, সচেতন এবং বিচারহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকেরা মনে করেন, মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সমস্যাকে আড়াল না করে তা নিয়ে কথা বলা, অন্যের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

প্রথমবাংলা ২৪ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।