1. admin@prothombangla24.com : admin_news :
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জরিমানা ও ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞায় রোনালদো, তবু খেলতে পারবেন পরের ম্যাচে হাম ও ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩ হাজারের বেশি নাহিদকে নিয়ে ক্ষোভ ইশরাকের, বললেন ‘কোনো পরিবর্তন করতে পারবে না’ কনডম ও ক্যাথেটারের উদ্ভাবনে মাতৃমৃত্যু রোধে অবদান, কে এই ডা. সায়েবা আখতার? বান্দরবানে পাহাড়ি সড়কে পিকআপ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল গাড়ির মিস্ত্রির ডব্লিউএইচওর পদে নিয়োগে অভিজ্ঞতার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন, পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়, আনসারের হাতে আটক যুবক ‘নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই শাসন করবে’: তাসনিম জারা এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ১৬ নভেম্বর, বিলম্ব ফি ১০০ টাকা দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙনের হাহাকার, ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব শত শত পরিবার

কনডম ও ক্যাথেটারের উদ্ভাবনে মাতৃমৃত্যু রোধে অবদান, কে এই ডা. সায়েবা আখতার?

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ বার পাঠ করা হয়েছে
ছবিঃ সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট | প্রথম বাংলা ২৪

একটি সাধারণ ক্যাথেটার আর একটি কনডম ব্যবহার করে প্রসব-পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (পোস্টপার্টাম হেমোরেজ বা পিপিএইচ) নিয়ন্ত্রণের সহজ ও স্বল্পব্যয়ী পদ্ধতি উদ্ভাবন করে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান বাংলাদেশের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার। তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতি চিকিৎসাবিশ্বে ‘সায়েবাস মেথড’ নামে পরিচিত। সীমিত চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ মোকাবিলায় এ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বিশ্বজুড়ে মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এমন বাস্তবতায় সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন ডা. সায়েবা আখতার।

২০০০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় তিনি কনডম ও ক্যাথেটার ব্যবহার করে জরায়ুর ভেতরে বেলুনের মতো একটি ব্যবস্থা তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি কনডম ইউটেরাইন বেলুন ট্যাম্পোনেড নামে পরিচিত। জরায়ুর ভেতরে বেলুনটি ফুলিয়ে চাপ সৃষ্টি করার মাধ্যমে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা হয়। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা যায় বলে সীমিত সম্পদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পদ্ধতিটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

পরবর্তী সময়ে এ পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা ও চর্চা হয়েছে। তবে রোগীর অবস্থা, চিকিৎসা সুবিধা এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এটি ব্যবহার করা জরুরি।

চিকিৎসাশিক্ষা ও কর্মজীবন

১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া ডা. সায়েবা আখতার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৮২ সালে অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজিতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাজ্যের লিভারপুল স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে প্রজননস্বাস্থ্যবিষয়ক ডিপ্লোমা এবং রয়্যাল কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টসের ফেলোশিপও অর্জন করেন।

দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষকতা এবং বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করেছেন। বিশেষ করে অবস্টেট্রিক ফিস্টুলায় আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

প্রসবজনিত জটিলতার কারণে সৃষ্ট অবস্টেট্রিক ফিস্টুলা নারীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এ রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশে ফিস্টুলা সার্জারির প্রসারেও ভূমিকা রেখেছেন ডা. সায়েবা আখতার।

তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টার। অবসর-পরবর্তী সময়ে নারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন MAMM’s Institute of Fistula and Women’s Health। পাশাপাশি ‘মাতৃছায়া’ নামে মেয়েদের শিক্ষা ও উন্নয়নকেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন বলে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নারীস্বাস্থ্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডা. সায়েবা আখতার একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০২০ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবদানের জন্য একুশে পদক। এ ছাড়া রয়্যাল কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টসের ফেলো অনোরিস কসা, অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনিকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননার কথাও তাঁর জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারীস্বাস্থ্য ও ফিস্টুলা চিকিৎসায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে কাজ হয়েছে। তবে International Society of Obstetric Fistula Surgeons (ISOFS)-এর প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট হিসেবে তাঁর বর্তমান পদমর্যাদা প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

সহজ উদ্ভাবনে বড় অবদান

ডা. সায়েবা আখতারের কাজ দেখিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের বড় সমস্যার সমাধানে সব সময় ব্যয়বহুল প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। মানুষের বাস্তব সমস্যা উপলব্ধি করা, সীমিত সম্পদকে কাজে লাগানো এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার মধ্য দিয়েও চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতি সেই প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। নারীস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের কাজ এবং সহজলভ্য উপকরণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

"প্রথম বাংলা ২৪ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত"