সাইদুর ইসলাম নাঈম | প্রথম বাংলা ২৪ঃ- কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামে এখন শোকের আবহ। সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার (২৩) অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং নির্যাতনের জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বুধবার দিবাগত রাতে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত স্বামী ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
নিহতের মা কোহিনূর বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই ফারিহার ওপর বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। যৌতুকের দাবিও ছিল নিয়মিত। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে যে অর্থ আয় করতেন ফারিহা, সেটিও স্বামী ও শাশুড়ি নিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ পরিবারের। পরিবারের আরও দাবি, স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয় মাদকাসক্ত ছিলেন এবং অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কেও জড়িত ছিলেন।
ফারিহার বাবা মো. হানিফ ও ছোট ভাই জোবায়ের হোসেন ফাহিম বলেন, মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাদের ভাষ্য, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘরের পরিস্থিতি এবং মরদেহের অবস্থান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা।
মেধাবী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছেরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শরীফ ইবনে আলম বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার প্রমাণ মিললে মামলার ধরণ পরিবর্তন করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply