‘Resilience Starts at Home’—অর্থাৎ ‘ঘর থেকেই শুরু হোক সহনশীলতার প্রস্তুতি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ ১৩ অক্টোবর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৬। দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধ এবং পরিবার ও সমাজের মধ্যে আগাম প্রস্তুতির সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ বা জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি পরিবারকে প্রস্তুত রাখার গুরুত্ব এবারের প্রতিপাদ্যে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নিরাপদ আবাসন, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা, জরুরি পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি একটি দুর্যোগসহনশীল সমাজ গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
দিবসটি উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা জানানো হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মুন্সী রফিকুল আলমের অংশ নেওয়ার কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের।
কেন্দ্রীয় আয়োজনের পাশাপাশি দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দুর্যোগের আগে করণীয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানো।
বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পসহ নানা ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ এলাকার ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা রাখা, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জরুরি পরিকল্পনা তৈরি, নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, টর্চ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী সদস্যদের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বাড়িঘর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য আগাম সতর্কবার্তার সঙ্গে যুক্ত থাকাও দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। এবারের প্রতিপাদ্য সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে—দুর্যোগসহনশীল দেশ গড়ার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে প্রতিটি পরিবার থেকে, ঘর থেকেই।
Leave a Reply