ডেস্ক রিপোর্ট | প্রথম বাংলা ২৪
রাঙামাটির সাজেকে টানা আট দিন ধরে চলছে সড়ক অবরোধ। এতে কার্যত সারা দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পাহাড়ি জনপদটি। বন্ধ রয়েছে যানবাহন চলাচল, সাজেকে যাচ্ছেন না পর্যটকেরা। অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে, অবরোধে সমর্থন না দিলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হাতে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ছিল অবরোধের অষ্টম দিন। ভোরে সাজেক-মাচালং সড়কে শুকনো পাতায় আগুন দিয়ে সরে যান অবরোধকারীরা। পরে সড়ক থেকে জ্বলন্ত পাতা সরিয়ে টহল অব্যাহত রাখে সেনাবাহিনী। তবে সড়কে অবরোধকারীদের কোনো পিকেটিং দেখা যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ইউপিডিএফ-সমর্থিত সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
অবরোধের কারণে সাজেকের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বাইরের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, যানবাহনের অভাবে বাজারে সবজি সরবরাহ করতে গিয়েও সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাজেক একটি সীমান্তবর্তী এলাকা। সেখানে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের কল্যাণের কথা বিবেচনা করলে এমন কর্মসূচি দীর্ঘায়িত করা উচিত নয় বলেও মত তাঁদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অবরোধকারীদের নির্দেশ না মানলে মারধর করা হয়। আন্দোলনে অংশ না নিলে তুলে নিয়ে নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অবৈধ অস্ত্রধারীদের ভয়ে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অবরোধকারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত সোমবার সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উজোবাজারে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি মেনে নেওয়া হলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় আলোচনা অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। এরপর অবরোধকারীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে জানা গেছে।
আলোচনার উদ্যোগ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁরা স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ওই সভার বিস্তারিত জেলা প্রশাসনের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে তাঁদের আবারও ডাকা হবে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সড়কে অবরোধকারীদের কোনো পিকেটিং দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোথাও সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে সড়ক অবরোধ চললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply